১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। এক কৌতূহলী কিশোর, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠছি—জানতাম না সামনে এমন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছি যা আমাদের জাতির পরিচয়ই বদলে দেবে।২৬শে মার্চ ভোরবেলা। চারপাশে ছিল নিস্তব্ধতা, কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার মধ্যেও যেন অজানা এক আতঙ্ক লুকিয়ে ছিল। প্রতিদিনের মতোই বাবা আমাদের—আমি ও আমার অগ্রজ ভাই বোরহানকে—নিয়ে স্কুল মাঠে হাঁটতে গিয়েছিলেন। সব কিছুই স্বাভাবিক মনে হলেও, সেদিন পরিবেশে যেন কিছু একটা অস্বাভাবিক ছিল।
বাসায় ফেরার পথে আমাদের পিছনের পাড়ার এক চাষি সাহেব আলীর সঙ্গে দেখা হলো। তিনি ভীত, তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরছিলেন। জানালেন, ষোলশহর ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে কিছু সৈন্য বেরিয়ে এসেছে—ক্লান্ত, ধূলিধূসরিত, কিন্তু দৃষ্টিতে ছিল এক অদম্য দৃঢ়তা। তারা নানা রকম অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন করছিল, গ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।আমরা আর দেরি করলাম না। কৌতূহল আর উত্তেজনায় ভাইয়ের সঙ্গে দৌড়ে গেলাম সেই সৈনিকদের খুঁজতে। ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে মিশে গেলাম, আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের বোঝা বইতে সাহায্য করলাম। তারা যাচ্ছিলেন দত্তপাড়া নামে একটি স্থানে, যা আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় মাইল দূরে। সেখানে গিয়ে দেখলাম ইতিহাস সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসাররা—মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর শওকত, ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ, লেফটেন্যান্ট মাহফুজসহ অনেকেই সেখানে ছিলেন। আমি তখনও কিশোর, কিন্তু বুঝতে পেরেছিলাম এরা কেবল সৈন্য নন—এরা বিদ্রোহী, এরা স্বাধীনতার সৈনিক, এরা এক নতুন দেশের স্বপ্নের বাহক।সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তারা চলে গেলেন করালডাঙ্গার পাহাড়ি জঙ্গলে—সংগঠিত হতে, নতুন পরিকল্পনা নিতে, আবার লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিতে।
কয়েকদিন পর তাদের মেজর জিয়াসহ একটি দল আমাদের স্কুল—গোমদন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ে—একটি ক্যাম্প স্থাপন করল, যেটি আমাদের বাড়ির একদম পাশেই। আমরা সারাদিন ঘোরাঘুরি করতাম তাদের আশেপাশে। মনে হতো যেন যোদ্ধাদের সান্নিধ্যে কিছু শেখার আছে। আমরা সাহায্য করতাম—খাবার, মশারি, টর্চ লাইট, ব্যাটারি, কম্বল—যা কিছু লাগত। আমাদের পরিবার নীরবে, নিঃশব্দে সাহায্য করে যেত। আমার সবচেয়ে বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার কুতুব উদ্দিনের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে তাদের সহায়তা করতেন—তাকে তারা একটি বিশেষ দায়িত্বও দিয়েছিলেন।
একদিন, কিশোরসুলভ দুঃসাহস আর কৌতূহল নিয়ে সাইকেল চালিয়ে চলে গেলাম কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত। সেখানে তখন তীব্র গোলাগুলি চলছিল। ব্রিজের এক পাশে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা, আর অন্য পাশে পাকিস্তানি বাহিনী। ক্যাপ্টেন হারুন চৌধুরী সেই লড়াইয়ের নেতৃত্বে ছিলেন। আহত সৈন্যদের আমাদের বাড়ির কাছেই থানা হেলথ কমপ্লেক্স হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। আমি প্রায় প্রতিদিন সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম—যুদ্ধ কী, তা কাছ থেকে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সাহসিকতারও সীমা ছিল। কালুরঘাটের যুদ্ধ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ৮ ইস্ট বেঙ্গলের সৈন্যরা তখন বাধ্য হয়ে ক্যাম্প ছেড়ে যায়। যাবার পূর্ব মুহূর্তে মেজর জিয়া তার রানার ল্যান্স নায়েক দেলোয়ারকে দিয়ে আমার বড়ভাইকে ডেকে পাঠান। তিনি আমার আব্বার কাছে দোয়া চেয়ে সাবধানে থাকতে বলেন এবং ১০টি গুলিসহ একটি ৩০৩ রাইফেল হস্তান্তর করেন। সীমান্ত পেরিয়ে তারা ভারতে চলে যান, পরবরতীতে সেখান থেকেই যুদ্ধ চালিয়ে যান।
এরপর অনেক বছর পেরিয়ে গেলো। আমি অনেকটা মেজর জিয়াকে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করি ও কমিশন লাভ করি। আরো গর্বের বিষয় ,আমাদের ১ম বি এম এ লং কোর্সের সমাপনী কুচকাওাজের প্রধান অতিতি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দুঃখজনকভাবে, ১৯৮১ সালের ৩০শে মে, রাতের অন্ধকারে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নির্মম ঘটনা। রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, যিনি ছিলেন স্বাধীনতার একজন ঘোষক, দেশপ্রেমিক সেনানায়ক ও রাষ্ট্রনায়ক, তাঁকে বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য নির্মমভাবে হত্যা করে।
দেশজুড়ে বিরাজ করতে থাকে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি। প্রতিটি সেনানিবাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, সংযম বজায় রাখার নির্দেশ জারি হয়। সৈনিকদের মাঝে তৈরি হয় গভীর বেদনা, শঙ্কা, আর ক্ষোভ। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁকে তারা দেখত একজন উদার হৃদয়ের সেনা নেতা ও আশার প্রতীক হিসেবে।
পৃথিবীতে মাঝে মধ্যে দু’একজন নেতার আগমন ঘটে যারা ইতিহাসের পাতাকে রাঙিয়ে চির স্মরণীয়, বরণীয় ও মানুষের নিকট অনুকরণীয় হয়ে থাকেন। ঠিক এরকমই একজন মানুষের আগমন ঘটে বাংলাদেশে। তিনি ছিলেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অষ্টম প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৃতীয় সেনাপ্রধান লেফটেনান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম । সততা ও আত্মত্যাগের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন এবং দেশপ্রেমের অনুপম উদাহরণ সৃষ্টি করে তিনি জয় করেছিলেন সকল স্তরের মানুষের মন । যে সকল কারণে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতিক এবং যিনি মানুষের মনের গভীরে ও ইতিহাসের পাতায় চির অমর হয়ে থাকবেন
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইতিহাসে একজন অসাধারণ দক্ষ, বীরত্ববান ও সম্মানিত বাঙালি অফিসার হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন সুপরিচিত। তাঁর পেশাগত সক্ষমতা, সাহসিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, সৌম্য ব্যক্তিত্ব, ক্ষিপ্রতা ও আন্তরিক ব্যবহার তাঁকে শুধু সহকর্মীদের কাছেই নয়, বিশেষত বাঙালি অফিসার ও জওয়ানদের মাঝে এক অনন্য জনপ্রিয়তায় আসীন করে তোলে।
জিয়াউর রহমান ১৯৫৫ সালে কমিশন প্রাপ্ত হন । জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধিক ক্ষেত্রেই সেনাবাহিনীর অভিজাত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসার। তিনি প্যারা ট্রুপার ও কমান্ডো হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, পাশাপাশি সম্পন্ন করেন স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্স, যা তাঁকে করে তোলে এক দুর্ধর্ষ ও কৌশলী সেনানায়ক। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি খেমকারান সেক্টরে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন এবং সেখানে তিনি অসামান্য বীরত্ব ও নেতৃত্বের পরিচয় দেন। তাঁর অধীনস্থ ইউনিট ওই যুদ্ধে যে বীরত্ব দেখায়, তার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনিটটি পায় দুটি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তঘমা-ই-জুরাত পদক—যা অত্যন্ত সম্মানজনক এবং বিরল অর্জন।এরপর তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান—এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব, যা কেবল মেধাবী ও চরিত্রবান অফিসারদেরই প্রদান করা হয়। একই বছর তিনি স্টাফ কলেজ কোয়েটাতে কমান্ড ও স্টাফ কোর্সে যোগ দিয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণের নতুন ধাপে উন্নীত হন।
১৯৬৯ সালে মেজর পদে উন্নীত হয়ে তিনি জয়দেবপুরে ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম জার্মানি এবং পরে যুক্তরাজ্যে যান, যেখানে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথেও কাজ করার বিরল সুযোগ পান। ১৯৭০ সালে দেশে ফিরে এসে তিনি চট্টগ্রামে নবগঠিত ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে একই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে রাতের অন্ধকারে বাঙালিদের উপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায়, তখন মেজর জিয়াউর রহমান জীবন, পরিবার, পদের কথা ভুলে গিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি নিজ ইউনিটের পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে ৮ম ইস্ট বেঙ্গলের কমান্ড গ্রহণ করেন এবং চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
জাতি যখন বিভ্রান্ত, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন বিচ্ছিন্ন, শেখ মুজিব কারাগারে, তখন ১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ, মেজর জিয়া নিজেই স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বীরদর্পে ঘোষণা করেন:“আমি মেজর জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।”এই ঘোষণায় পুরো জাতি উজ্জীবিত হয়, আর বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বার্তা পৌঁছে যায়। মেজর জিয়ার কণ্ঠস্বর এক দিক থেকে একজন সৈনিকের বিদ্রোহ নয়, ছিল এক জাতির আত্মঘোষিত স্বাধীনতার অভ্যুদয়।
২৫ মার্চের গণহত্যার কয়েকদিন আগেই তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ অফিসারদের—ক্যাপ্টেন অলী আহমেদ (পরবর্তীকালে কর্নেল ও মন্ত্রী) এবং ক্যাপ্টেন শমসের মোবিন চৌধুরী—কে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, ছাত্রনেতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তিনি তাঁর আসন্ন বিদ্রোহ, যুদ্ধ পরিকল্পনা ও স্বাধীনতা ঘোষণার ইঙ্গিত দেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের জন্য একটি প্রাথমিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ—যা শুধু সাহসিকতাই নয়, বরং দূরদর্শিতার এক অনন্য নজির।
স্বাধীনতা ঘোষণার পর মেজর জিয়া এক মুহূর্তও থেমে থাকেননি। তিনি তাঁর ইউনিটের অফিসার, জওয়ানদের নিয়ে ছাত্র, যুবক, কৃষক ও শ্রমিকদের সংগঠিত করতে শুরু করেন। ১২ এপ্রিল, সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রথম সামরিক সম্মেলনে মেজর জিয়া অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে, যা অন্তর্ভুক্ত করেছিল চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, মিরসরাই ও রামগড় এলাকা।
এই সেক্টরে যুদ্ধ সংগঠিত করার পাশাপাশি, তিনি তাঁর নেতৃত্বে থাকা ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল—এই তিনটি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠন করেন মুক্তিবাহিনীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’, যার তিনি ছিলেন কমান্ডার। একইসঙ্গে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরেরও কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন।মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অনন্য সাহসিকতা, সংগঠকসুলভ নেতৃত্ব, কৌশলী পরিকল্পনা এবং দৃঢ় মনোবলের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে—যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান।
যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় অর্জনের পর মেজর জিয়া তাঁর অধীনস্থ ইউনিটসমূহকে নিয়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার’ হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি হন লেফটেন্যান্ট জেনারেল।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর, ২৫ আগস্ট, রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর তৃতীয় সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন।
কিন্তু ওই বছরের ৩ নভেম্বর, মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ কর্নেল শাফায়াত জামিলের সহায়তায় এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখেন। তবে সেনাবাহিনীর মধ্যে জিয়ার প্রতি জনপ্রিয়তা ও এই পদক্ষেপে অসন্তোষের কারণে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা বিপ্লব সংঘটিত হয়, এবং জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়ে পুনরায় সেনাপ্রধান পদে আসীন হন।এই বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসেন। দেশের অস্থিরতা, রাজনৈতিক শূন্যতা এবং জাতীয় নেতৃত্বের সংকটে তিনি সামগ্রিক নেতৃত্ব গ্রহণে অগ্রসর হন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
সশস্ত্র বাহিনীতেও তিনি দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনি কঠোর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত শৃঙ্খলা উন্নয়নের কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহন করেন এবং তাদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করেন। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট সফল হলেও তাঁকে বেশ কয়েকটি সেনা-বিদ্রোহ ও সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মোকাবেলা করতে হয়। এসকল বিদ্রোহ দমনে বাধ্য হয়ে তাকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। তিনি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে সম্মানের সাথে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন । অনেকে মন্তব্য করেন যে, এই কাজটি ছিল জেঃ জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল রাজনৈতিক সিদবান্ত।